হাওজা নিওজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইয়েমেনের এক যোদ্ধার ছবি-পায়ে জুতা নেই, কাপড় দড়ি দিয়ে পেঁচিয়ে বাঁধা-সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবিটি যতটা না যুদ্ধের, তার চেয়ে বেশি মানবিক সংকট ও অবহেলার প্রতীক।
ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে চলছে এক নীরব কিন্তু ভয়াবহ সংঘাত। এক তরফ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট-যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা সুস্পষ্ট।
এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘের হিসাবে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং বেশির ভাগ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ছবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে তা আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন তুলে ধরে: কেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক জীর্ণ যোদ্ধার ছবি এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করছে? এর উত্তর সম্ভবত এই-এটি প্রতিরোধ, ত্যাগ ও অসম লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কোনো ধর্ম বা জাতির জন্য প্রার্থনা করা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। কিন্তু সাংবাদিকতার দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই করা, প্রেক্ষাপট তুলে ধরা এবং একপাক্ষিক বর্ণনার ঊর্ধ্বে থাকা। ইয়েমেনের এই যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘাত নয়-এটি এক মানবিক বিপর্যয়, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নীরবতার ফল।
আমাদের প্রশ্ন হওয়া উচিত: এই যুদ্ধ কেন চলছে? কে লাভবান হচ্ছে? আর কে দিচ্ছে মূল্য? জুতোহীন পায়ের সেই যোদ্ধা কেবল একটি ছবি নয়-সে আমাদের বিবেকের আয়না।
আপনার কমেন্ট